নাহিদ সরদার,বানারীপাড়া(বরিশাল)প্রতিনিধি: বরিশালের বানারীপাড়ায় জেল-জরিমানার পরেও থামছে না সন্ধ্যানদীতে মা ইলিশ শিকার। ইলিশ শিকারের মহোৎসব প্রতিদিন বেড়েই চলেছে। প্রশাসনের নজর এড়িয়ে নিষিদ্ধ সময়ে অবাধে মা ইলিশমাছ শিকার করছে অসাধু জেলেরা। চতুর জেলেরা জেলেনৌকায় অস্থায়ী ইঞ্জিন লাগিয়ে সন্ধ্যানদীতে মাছ নিধনে নামে। এ সময় অভিযানের টের পেলে জাল রেখে ইঞ্জিনচালিত নৌকা নিয়ে দ্রুত সটকে পড়ে তারা। ফলে সহজেই তাদের আটককরা যাচ্ছে না বলে অভিযোগ করছেন অভিযানের দায়িত্বে থাকা মৎস্য কর্মকর্তাসহ অন্যান্যরা। জেলেদের সরকারি সহায়তা দিলেও তা অপ্রতুল বলে অভিযোগ রয়েছে জেলেদের। বানারীপাড়া উপজেলায় প্রায় পাঁচ হাজার জেলে রয়েছে। কিন্তু ইলিশের প্রজনন মৌসুমে জেলের সংখ্যা বেড়ে তিনগুণ ছাড়িয়ে যায়। ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে মৌসুমী জেলেরা মাছ ধরতে আসে। বিভিন্ন পেশার মানুষ এ কাজে যুক্ত হয়। স্কুল-কলেজ ও মাদরাসা পড়ুয়া ছাত্ররাও নিষিদ্ধ সময়ে মৌসুমী জেলে বনে যান। এদের সঠিক তালিকা না থাকায় সরকারি সহায়তা পাচ্ছেন না তালিকাভুক্ত জেলেরা।
অসাধু কিছু মাছ ব্যবসায়ী জেলেদের মাছ ধরতে উৎসাহ দেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তারা মৌসুমী জেলেদের কাছ থেকে কম মূল্যে ইলিশ কিনে চড়া দামে বিক্রি করেন বলেও জানা গেছে। আর ধৃত এসব মা ইলিশ কিনতে এখন আর ক্রেতাদের হাট-বাজারে যেতে হয় না। উৎসুক ক্রেতারা নদীর পাড়ে ব্যাগ অথবা বস্তা নিয়ে অপেক্ষা করে। তাছাড়া বাড়ি বাড়ি এখন ইলিশ মাছের গোপন হাট বসে।
৪ অক্টোবর নিষিদ্ধ সময়ের শুরুর দিনে ভোর রাতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রিপন কুমার সাহার নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে উপজেলার মসজিদবাড়ি (দাসের হাট) এলাকার সন্ধ্যানদী থেকে ৯ জন ও পরের দিন নলশ্রী এলাকা থেকে ২ জন জেলেকে আটক করে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও জরিমানা করলেও আর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। প্রশাসনের অভিযানে ভাটা পড়ার কারণে সন্ধ্যানদীতে প্রতিদিন ইলিশ নিধনের মহোৎসব বেড়েই চলেছে। এ ব্যাপারে স্থানীয় সুধীজনরা ক্ষোভ প্রকাশ করে চলেছেন প্রতিনিয়ত। এ প্রসঙ্গে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ জানান, মা ইলিশ রক্ষার অভিযান চলমান রয়েছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের অসহযোগিতার ফলে মা ইলিশ রক্ষা অভিযান কঠিন হয়ে পড়েছে। তাছাড়া অভিযানে পর্যাপ্ত পুলিশ না পাওয়ায় কাউকে আটক করা যাচ্ছে না। উপজেলার প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে বোটসহ প্রশাসনের লোক নিয়োজিত থাকলে অবাধে মা ইলিশ ধরা ঠেকানো সম্ভব বলে মৎস্য কর্মকর্তা আরো জানান। এ প্রসঙ্গে বানারীপাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জানান, মৎস্য অভিযানের সময় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের দুর্গা ও লক্ষ্মীপূজা থাকায় পুলিশ সদস্যরা নিরাপত্তার ডিডটিতে ছিলেন। তাই মৎস্য অভিযানে পর্যাপ্ত পুলিশ দেওয়া সম্ভব হয়নি। এখন আর সে সমস্যা নেই।
উল্লেখ্য, প্রজনন মৌসুমে ৪ অক্টোবর থেকে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত ২২দিন মা ইলিশ ধরার নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে সরকার। নিষিদ্ধ মৌসুমে জেলেদের প্রণোদনায় চাল সহায়তা দেওয়াসহ বিভিন্ন সহায়তা করা হয়।
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : শেখ মাজহারুল ইসলাম শাকিল